বেতন-ভাতা দ্বিগুণের বেশি বাড়ালে আরো সংকুচিত হয়ে পড়বে সরকারের ব্যয় সক্ষমতা

সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বোচ্চ গ্রেডে ১০৫ শতাংশ ও সর্বনিম্ন গ্রেডে ১৪২ শতাংশ বেতন বাড়ানোর সুপারিশ করে গতকাল প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে নবম জাতীয় পে কমিশন।

সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বোচ্চ গ্রেডে ১০৫ শতাংশ ও সর্বনিম্ন গ্রেডে ১৪২ শতাংশ বেতন বাড়ানোর সুপারিশ করে গতকাল প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে নবম জাতীয় পে কমিশন। সর্বনিম্ন ধাপে বেতন কাঠামো ৮ হাজার ২৫০ থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। আর সর্বোচ্চ ধাপে বেতন কাঠামো ৭৮ হাজার থেকে বাড়িয়ে সুপারিশ করা হয়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। বেতন-ভাতা বাড়ানোর এ প্রস্তাব বাস্তবায়নে সরকারের প্রয়োজন হবে ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা।

কাঙ্ক্ষিত হারে রাজস্ব আয় না বাড়লেও প্রতি বছরই সরকারি ব্যয়ের আকার বাড়ছে। বেতন-ভাতা ও ঋণের সুদ পরিশোধের খরচ বৃদ্ধির কারণে ক্রমেই বাড়ছে পরিচালন খাতের ব্যয়। অন্যদিকে এর বিপরীতে কমে যাচ্ছে উন্নয়ন খাতে সরকারের ব্যয়। এ অবস্থায় নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য ১ লাখ কোটি টাকারও বেশি খরচ করা হলে সরকারের ব্যয় সক্ষমতা আরো সংকুচিত হয়ে পড়বে। বাড়তি ব্যয় মেটাতে তখন সরকারকে বাধ্য হয়ে ঋণ নিতে হবে, যা সুদ বাবদ ব্যয়কে আরো বাড়িয়ে দেবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এ অবস্থায় সরকারের আর্থিক সংগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন-ভাতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়ার পরামর্শ তাদের।

বিদ্যমান বেতন কাঠামো অনুসারে, সরকারের সচিব ও সমমর্যাদার কর্মচারীদের জন্য প্রথম গ্রেডে ৭৮ হাজার টাকার মূল বেতন নির্ধারিত রয়েছে। নতুন বেতন স্কেলে এ বেতন বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বর্তমান বেতন স্কেলে ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় কর্মরত ২০তম গ্রেডের একজন সরকারি কর্মচারী ৮ হাজার ২৫০ টাকা মূল বেতন এবং বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা মিলিয়ে মোট ১৬ হাজার ৯৫০ টাকা পান। প্রস্তাবিত নতুন বেতন স্কেল অনুসারে ২০ গ্রেডের একজন কর্মচারী ২০ হাজার টাকা মূল বেতন ও ভাতা মিলিয়ে ৪১ হাজার ৯০৮ টাকা পাবেন।

কমিশনের প্রতিবেদনে বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারি কর্মচারীদের জন্য বেশকিছু নতুন সুযোগ-সুবিধারও প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্যবীমা প্রবর্তন, পেনশন ব্যবস্থার সংস্কার, সরকারি কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড পুনর্গঠন, সার্ভিস কমিশন গঠন, বেতন গ্রেড ও স্কেলের যৌক্তিক পুনর্বিন্যাস, সরকারি দপ্তরের ভাতাগুলো পর্যালোচনার জন্য কমিটি গঠন এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে মানবসম্পদ উন্নয়ন।

সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর বিষয়টি পর্যালোচনা করতে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার গত বছরের জুলাইয়ে সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খানকে প্রধান করে ২৩ সদস্যবিশিষ্ট নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে। এর ছয় মাসের মধ্যেই কমিশন তাদের সুপারিশ চূড়ান্ত করে গতকাল সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

বেতন-ভাতা বৃদ্ধির পাশাপাশি কমিশনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ছিল প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আর্থিক সংস্থান নির্ধারণ এবং এর বাস্তবায়নযোগ্যতা পর্যালোচনা। এ বিষয়ে বেতন কমিশনের প্রধান জাকির আহমেদ খান জানান, প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। বর্তমানে ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং নয় লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের ব্যয় হচ্ছে ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।

রাজস্ব আহরণের মাধ্যমে যে আয় আসে সেটি থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যয় মিটিয়ে থাকে সরকার। যদিও প্রতি বছর যে পরিমাণ রাজস্ব আয় হয় সেটি দিয়ে সরকারের পুরো ব্যয় তো দূরের কথা পরিচালন ব্যয়ই মেটানো সম্ভব হয় না। ফলে দেশী-বিদেশী উৎস থেকে ঋণ নিতে হয় সরকারকে। গত পাঁচ অর্থবছরে সরকারের রাজস্ব আয় বেড়েছে ৩৫ শতাংশ। এর বিপরীতে ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ৪২ শতাংশ। ঘাটতি মেটাতে সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সরকার ১ লাখ ৮৩ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা ঋণ নেয়।

বর্তমানে সরকারি ব্যয়ের বড় অংশই ব্যয় হচ্ছে বেতন-ভাতা, পেনশন ও ঋণের সুদ পরিশোধে। অর্থ বিভাগের তথ্য বলছে, সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট ৬ লাখ ২৫ হাজার ৯১৪ কোটি টাকা ব্যয় করেছে সরকার। এর মধ্যে ৪ লাখ ৭৪ হাজার ১৪৩ কোটি টাকা পরিচালন খাতে এবং ১ লাখ ৫১ হাজার ৭৭১ কোটি টাকা উন্নয়ন খাতে ব্যয় হয়েছে। এক্ষেত্রে সরকারের মোট ব্যয়ের প্রায় ৭৬ শতাংশ গেছে পরিচালন ব্যয়ের পেছনে।

সরকারের গত পাঁচ অর্থবছরের ব্যয় পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রতি বছরই ধারাবাহিকভাবে পরিচালন ব্যয়ের হিস্যা বাড়ছে। এর বিপরীতে কমছে উন্নয়ন ব্যয়। সরকারের উন্নয়ন ব্যয়ের সঙ্গে কর্মসংস্থানের সম্পর্ক রয়েছে। উন্নয়ন খাতে ব্যয় বাড়লে সেটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে। ফলে উন্নয়ন খাতে ব্যয় কমে গেলে কর্মসংস্থানের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। নতুন বেতন কমিশনের সুপারিশ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে গেলে সরকারের উন্নয়ন খাতের ব্যয় আরো সংকুচিত হয়ে পড়বে। এক্ষেত্রে যদি সরকার ঋণ করে বেতন-ভাতা পরিশোধ করে, তাহলে সেটি সুদ পরিশোধের ব্যয়কে বাড়িয়ে দেবে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘পে কমিশন যে সুপারিশ করেছে সেটি বাস্তবায়ন হলে কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মচারীরা ছাড়াও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, এমপিও খাতের বেতন-ভাতার আর্থিক চাপও সরকারের ওপর এসে পড়বে। এক্ষেত্রে রক্ষণাত্মকভাবে হিসাব করা হলেও বাজেটে ন্যূনতম ১ লাখ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। এটি পরিচালন ব্যয়ের অংশ এবং এক্ষেত্রে ঋণ করা কোনো বিকল্প হতে পারে না। কারণ ধার করে বেতন দেয়া কখনই টেকসই অর্থায়ন পদ্ধতি হতে পারে না। তাহলে বাকি থাকছে একদিকে রাজস্ব আয় বাড়াতে হবে, অন্যদিকে সরকারের খরচ কমাতে হবে। যদি আমরা ধরে নিই যে তিন বছরে সরকার এটি বাস্তবায়ন করবে তাহলে আগামী বাজেটে এ বাবদ ন্যূনতম ৩৩ হাজার কোটি টাকা যোগ হবে। যেখানে রাজস্ব আয় ৪ লাখ কোটি টাকায় ওঠাতেই ঘাম বেরিয়ে যাচ্ছে এবং সেটি দিয়ে পরিচালন ব্যয় সামাল দিতে কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সেখানে বাড়তি বেতন-ভাতা দেয়ার জন্য এ পরিমাণ রাজস্ব আহরণ বাড়ানো কীভাবে সম্ভব হবে? অন্যদিকে সরকারকে বিদ্যুতের বিল, জ্বালানির খরচ, সুদ পরিশোধ, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি ও ভর্তুকির মতো খাতে ব্যয় করতে হবে। এক্ষেত্রে ব্যয় সংকোচনের মাধ্যমে যে বাড়তি এ ব্যয় মেটানো সম্ভব হবে সেটারও তো কোনো সুযোগ দেখছি না। ফলে বেতন-ভাতা বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান কীভাবে হবে সে অংক মেলাতে পারছি না।’

সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে প্রথম থেকে নবম গ্রেডে যারা বেতন পান তাদের প্রথম শ্রেণীর কর্মচারী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বেতন কমিশনের প্রতিবেদনে প্রথম গ্রেডের জন্য বিদ্যমান ৭৮ হাজার টাকা মূল বেতন থেকে ১০৫ শতাংশ বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। দ্বিতীয় গ্রেডে বিদ্যমান ৬৬ হাজার থেকে ১ লাখ ৩২ হাজার, তৃতীয় গ্রেডে ৫৬ হাজার ৫০০ থেকে ১ লাখ ১৩ হাজার, চতুর্থ গ্রেডে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ, পঞ্চম গ্রেডে ৪৩ হাজার থেকে ৮৬ হাজার, ষষ্ঠ গ্রেডে ৩৫ হাজার ৫০০ থেকে ৭১ হাজার, সপ্তম গ্রেডে ২৯ হাজার থেকে ৫৮ হাজার, অষ্টম গ্রেডে ২৩ হাজার থেকে ৪৭ হাজার ২০০ এবং নবম গ্রেডের মূল বেতন বিদ্যমান ২২ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৪৫ হাজার ১০০ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে।

দশম থেকে ২০তম গ্রেডের বেতনভুক্তদের মধ্যে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীরা রয়েছেন। বেতন কমিশনের পক্ষ থেকে দশম গ্রেডের মূল বেতন ১৬ হাজার থেকে ৩২ হাজার, ১১তম গ্রেডে ১২ হাজার ৫০০ থেকে ২৫ হাজার, ১২তম গ্রেডে ১১ হাজার ৩০০ থেকে ২৪ হাজার ৩০০, ১৩তম গ্রেডে ১১ হাজার থেকে ২৪ হাজার, ১৪তম গ্রেডে ১০ হাজার ২০০ থেকে ২৩ হাজার ৫০০, ১৫তম গ্রেডে ৯ হাজার ৭০০ থেকে ২২ হাজার ৮০০, ১৬তম গ্রেডে ৯ হাজার ৩০০ থেকে ২১ হাজার ৯০০, ১৭তম গ্রেডে ৯ হাজার থেকে ২১ হাজার ৪০০, ১৮তম গ্রেডে ৮ হাজার ৮০০ থেকে ২১ হাজার, ১৯তম গ্রেডে ৮ হাজার ৫০০ থেকে ২০ হাজার ৫০০ এবং সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের মূল বেতন বিদ্যমান ৮ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার ৫০০ টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন জমা দেয়ার সময় বেতন কমিশনের প্রস্তাব বাস্তবায়নের বিষয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এ প্রস্তাব বাস্তবায়নই এখন পরবর্তী কাজ। এজন্য একটি কমিটি গঠন করে দেয়া হবে, যে কমিটি এর বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে কাজ করবে।’

বর্তমান বেতন কমিশন গঠনের ১২ বছর আগে ২০১৩ সালে সর্বশেষ বেতন কমিশন গঠন করা হয়েছিল। কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে ২০১৫ সালে সর্বোচ্চ গ্রেডে ৯৫ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন গ্রেডে ১০১ শতাংশ মূল বেতন বাড়িয়েছিল সরকার। সে সময় সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল এরপর আর কোনো বেতন কমিশন গঠন করা হবে না। এর পরিবর্তে প্রতি বছর মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি কর্মচারীদের বেতন সমন্বয় করা হবে। যদিও সেটি আর পরবর্তী সময়ে বাস্তবায়ন হয়নি।

অর্থ বিভাগের সাবেক সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘পে কমিশনের পক্ষ থেকে বেতন-ভাতা বৃদ্ধির জন্য যে সুপারিশ করা হয়, কখনই তা শতভাগ বাস্তবায়ন হয় না। কতটুকু বাস্তবায়ন করা যাবে সেটি নির্ভর করে সরকারের আর্থিক সক্ষমতার ওপর। তাছাড়া অতীতেও বেতন-ভাতা একবারে না বাড়িয়ে ধাপে ধাপে বাড়ানো হয়েছিল। বর্তমান পে কমিশন যে সুপারিশ করেছে, সেক্ষেত্রেও নিশ্চয় আর্থিক সংগতি বিবেচনা করেই সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। তবে শুধু পরিচালন ব্যয়ের পেছনে সিংহভাগ অর্থ ব্যয় করা হলে উন্নয়ন খাতে সরকারের ব্যয় সক্ষমতা কমে যাবে। তখন এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে কর্মসংস্থানের ওপর। ফলে আর্থিক সক্ষমতা অনুসারে বেতন-ভাতা বৃদ্ধির পাশাপাশি রাজস্ব আয় বাড়ানোর দিকে জোর দিতে হবে।’

সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাড়ানো হলে এর সঙ্গে সংগতি রেখে পেনশনভোগীদের ভাতার পরিমাণও বাড়ে। প্রতি বছরই সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও পেনশন বাবদ সরকারের বড় অংকের অর্থ ব্যয় হয়। সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেতন-ভাতা ও পেনশন বাবদ ১ লাখ ৩১ হাজার ৬৭৬ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। এর আগের ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৯৮ হাজার ৬৬২ কোটি, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৮৯ হাজার ৭০৯ কোটি, ২০২১-২২ অর্থবছরে ৭৬ হাজার ২২৭ কোটি এবং ২০২০-২১ অর্থবছরে ৫৬ হাজার ৫৮১ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছিল।

বেতন-ভাতা ও পেনশন বাবদ চল‌তি অর্থবছরের বাজেটে ১ লাখ ৬১ হাজার ১৪১ কো‌টি টাকা বরাদ্দ রাখা আছে। বেতন কমিশনের সুপা‌রিশ বাস্তবায়নে বাড়‌তি ব্যয়ের বিষয়‌টি বিবেচনা করে সম্প্রতি সংশো‌ধিত বাজেটে অ‌তি‌রিক্ত ২২ হাজার কো‌টি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সরকারি কর্মচারীরা যাতে ভালোভাবে জীবনযাপন করতে পারেন এবং কাজে মনোযোগ দিতে পারেন সেটি নিয়ে তো কোনো সমস্যা নেই। মূল্যস্ফীতিসহ সব মিলিয়ে তাদের ক্রয়ক্ষমতার অনেক অবনমন হয়েছে। সেক্ষেত্রে বেতন কমিশন যে সুপারিশ করেছে তার মধ্যে যৌক্তিকতা রয়েছে। তবে এর সঙ্গে সঙ্গে সরকারি কর্মচারী যে সেবা দিয়ে থাকেন সেখানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নিশ্চয়তা থাকবে সেটিও আমরা চাই। এটি তো আর একবারে বাস্তবায়ন করা যাবে না, তাই কীভাবে এটি বাস্তবায়ন করা হবে তার একটি সময়সীমা সরকারকে দিতে হবে। পাশাপাশি রাজস্ব আহরণের সঙ্গেও যেহেতু সরকারি কর্মচারীরাই জড়িত থাকেন, তাই কীভাবে রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর পাশাপাশি ফাঁকি রোধ করা যায় সেটির নিশ্চয়তাও দিতে হবে।’

আরও